1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন

খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে যা বলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২০ Time View
  1. ## বন্ধ মিল-কারখানা চালু

## নতুন শিল্পায়ন-চীনা বিনিয়োগ

## বিদ্যুৎ-গ্যাস অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব

দীর্ঘদিনের শিল্পসম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে খুলনাঞ্চলকে আবারও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালু, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুলনাঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে খুলনাঞ্চলের উন্নয়নে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন বিনিয়োগ, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বন্ধ মিল-কারখানা চালুর উদ্যোগ

খুলনা একসময় দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে পাটশিল্প, বস্ত্রশিল্প ও বিভিন্ন ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নতুন শিল্পায়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

শুধু পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করাই নয়, খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে খুলনা থেকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

 

মোংলাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ

খুলনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ সময় চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্প, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

 

বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো সম্প্রসারণ

শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান শর্ত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। বিশেষ করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দীর্ঘদিন অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ।

তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিমাণ, নির্দিষ্ট প্রকল্প এবং সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা এখনো সামনে আসেনি। প্রতিশ্রুত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে খুলনাঞ্চলের হারানো শিল্পসম্ভাবনা পুনরুদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পথ তৈরি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category