খুলনা অঞ্চলের বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর ঘোষণা, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা
বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাট জেলার কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে। খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, একসময় শিল্পসমৃদ্ধ খুলনাসহ দীর্ঘদিন অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলন ও শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আড়ালে শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।
বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থানের উৎস ধ্বংস করতে পারেন না। শিল্পকারখানা দেশের সম্পদ, শ্রমিকদেরও সম্পদ। এগুলো ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক, তাঁদের পরিবার ও সন্তানেরা।
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
Leave a Reply