
খুলনা সফরকে সামনে রেখে মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ নগরী গড়ে তোলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন খুলনা সদর থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান খান আপন।
তিনি একই সঙ্গে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে জিয়াউর রহমান খান আপন বলেন, খুলনা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী। অথচ দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী নানা নাগরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, খুলনার মানুষও তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান। জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং মানুষের ন্যায্য দাবি তুলে ধরা রাজনৈতিক দায়িত্বেরই অংশ।”
নগরীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান খান আপন বলেন, মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান খান আপন বলেন, “আমরা এমন একটি খুলনা চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন, ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করবেন এবং তরুণেরা মাদক ও অপরাধের পথ ছেড়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।”
এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কথা তুলে ধরেন জিয়াউর রহমান খান আপন।
তাঁর অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নকাজ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। কাজের ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বর্ষায় কাদা, পানি ও খানাখন্দের কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
জিয়াউর রহমান খান আপন বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরীর প্রধান যোগাযোগপথের উন্নয়নকাজ বছরের পর বছর ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া প্রয়োজন। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাই, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। সড়কটির কাজ দ্রুত শেষ হলে নগরবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
খুলনাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সরবরাহ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, খুলনার শিল্প ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
আপন আরও বলেন, “খুলনার মানুষের ন্যায্য দাবি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। দলের একজন কর্মী হিসেবে আমি চাই, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সহযোগিতা করতে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরতে। আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন।”
তিনি মনে করেন, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের সাফল্য কামনা করে জিয়াউর রহমান খান আপন নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
Leave a Reply