
খুলনায় সম্পদের তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখার অভিযোগে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার ও তাঁর স্ত্রী ডলি ভান্ডারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান। দুদকের মামলা নম্বর ১৮।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিধান কুমার ভান্ডার (৬৩) মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পদে চাকরির সময় অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৩ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে নিজ মালিকানা ও দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী ডলি ভান্ডারের (৫৫) বিরুদ্ধেও সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ডলি ভান্ডার গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিজস্ব উল্লেখযোগ্য বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও স্বামীর সহায়তায় সম্পদ বিবরণীতে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৬৪ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা নিজ মালিকানা ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দুদকের অভিযোগ, বিধান কুমার ভান্ডারের চাকরিজীবনে অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে এবং স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদ ভোগদখলে রাখতে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।
মামলায় বিধান কুমার ভান্ডারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, ডলি ভান্ডারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে।
Leave a Reply