
কোথাও ভাঙাচোরা সড়ক, কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও ভাঙা বা আবর্জনায় বন্ধ ড্রেন। মেহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এমন বেহাল অবস্থা যেন নিত্যদিনের চিত্র। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা আর খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী।
প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও বছরের পর বছর নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভেঙে পড়েছে পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর পৌর এলাকায় মোট সড়ক রয়েছে ১৪৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পিচঢালা সড়ক মাত্র ৫৯ কিলোমিটার। বাকি সড়ক আধাপাকা ও কাঁচা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের অনেকগুলোই এখন খানাখন্দে ভরা। অন্যদিকে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান পৌরবাসী।
সম্প্রতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়ায় জলাবদ্ধ ও কর্দমাক্ত ভাঙা সড়কে ধানগাছ লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। কাদা ও পানির কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা সাদিক হোসেন জানান, বছরের পর বছর ধরে তাদের এলাকার সড়ক সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তারা ধানগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীকী প্রতিবাদ। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
শুধু মন্ডলপাড়া নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কোথাও একদিন বৃষ্টির পর এক সপ্তাহ পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ড্রেন থাকলেও অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের সংযোগ না থাকায় ড্রেনের পানি রাস্তায় উঠে আসে। আবার কোথাও ড্রেন ভেঙে পড়েছে কিংবা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার দুর্গন্ধে বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব। একই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে নানা রোগের আশঙ্কা। জলাবদ্ধ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও রোগীরা।
পৌরবাসী রফিকুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের এলাকার রাস্তায় পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর নয়। দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের চলাচলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। পৌরসভায় একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কার, নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা চান তিনি।
শহরের বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন জানান, মেহেরপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সড়ক ও ড্রেনের পানি একাকার হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।
পৌরবাসী আসমা খাতুন বলেন, সড়ক ও ড্রেনের দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টির পর অনেক সড়কে কয়েকদিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। কোথাও ড্রেন ভেঙে পড়েছে, আবার কোথাও ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে পানি রাস্তায় উঠে আসে। বারবার অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মেহেরপুর পৌরসভার প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকার বেশ কিছু সড়ক ও ড্রেন সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। সীমিত সম্পদের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্পের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সড়ক, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Leave a Reply