
নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে চার কোটি টাকার সেতু। কিন্তু দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি দিয়ে পারাপারের সুযোগ নেই। ফলে সেতু নির্মাণের পরও নদী পার হতে হচ্ছে ডিঙি নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোয়।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুরসহ অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগের চিত্র এটি। ২০২০ সালে লাঘাটা নদীর ওপর শুরু হওয়া সেতুর নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে; এখনো নিশ্চিত হয়নি কবে চালু হবে সেতুটি।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার কামারচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই খেয়াঘাট সড়কের আওতাধীন লাঘাটা নদীর ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২০ সালের ৬ জুলাই শুরু হয়। ১ কোটি টাকা বাজেটের এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রিন্স মামুন (জেভি)’-এর কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে আরও প্রায় চার বছর অতিবাহিত হলেও সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে পারেনি ঠিকাদার।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে বিদ্যমান অবস্থাতেই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সংযোগ সড়কের মাটির কাজ শুরু হতে পারে বলে আশ্বস্ত করেছে রাজনগর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
সরেজমিনে খুঁজ নিয়ে জানা যায়, মূল সেতুর কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন পড়ে আছে। এতে দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলা নগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ চলালে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া ও ব্যবসার মালামাল পরিবহনে স্থানীয়দের খরচ ও সময় দ্বিগুণ লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় চলে গেলেপ সেতু দিয়ে চলাচল করা যায় না। অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সরকার প্রায় ৪ কোটি টাকা দিয়ে সেতু নির্মাণ করলেও বাস্তবে আমাদের কোনো কাজে আসছে না সেতু। দ্রুত সময়ে সংযোগ সড়ক স্থাপন করে সেতুটি চালু করা হোক।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, সেতুটি চালুর আশায় ছিলাম, কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও আমাদের দুঃখ ঘুচলো না। বর্ষাকালে নৌকা আর সাঁকোই আমাদের একমাত্র ভরসা।
কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রিন্স মামুন (জেভি)’-এর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল গনি বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হলেও বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। তাই বর্তমান অবস্থাতেই আমরা সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করব।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদার পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা হওয়ায় দু-এক দিনের মধ্যে তিনি এলাকায় পৌঁছাবেন। আশা করা যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে সম্ভব না হলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যেই মাটির কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।
Leave a Reply