1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

পাইকগাছায় সাদা চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে চড়া সুদের কারবার, থানায় অভিযোগ 

আলাউদ্দীন রাজা, পাইকগাছা (খুলনা)
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭১ Time View
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া গ্রামে সাদা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে চড়া সুদে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে। সুদের টাকা পরিশোধে সামান্য বকেয়া থাকলেও স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন থানা পুলিশের কাছে।একাধিক ভুক্তভোগী এ ঘটনায় কেউ জেল খেটেছেন, কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আবার কেউ আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহরাব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অসহায় ও আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের চড়া সুদে টাকা দিয়ে আসছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতি লাখ টাকায় বছরে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার সময় গ্রহীতার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা সাদা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে করতে যখন মূল টাকার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাকি থাকে, তখন তাদের দেওয়া স্বাক্ষর করা চেকের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অঙ্ক বসিয়ে ব্যাংক থেকে ডিজঅনার করানো হয়। এরপর প্রথমে আইনি নোটিশ এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলা করা হয় বলে তারা দাবি করেন। মামলা হওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোহরাব হোসেনের কাছে গেলে বকেয়া টাকার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেন, মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে শেষ পর্যন্ত জমিজমা বিক্রি করে টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ সব বিষয়ে জনৈক ইদ্রিস আলী সোহরাব হোসেনের নামে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপর দিকে
কাটাবুনিয়া গ্রামের সামজেদ আলী, মান্নান, ছলেমান, ইবাদুল, হানেফ, কিনা, আক্তার, রাজ্জাক, ওলিয়ার ও ইদ্রিসসহ কয়েকজন এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। সামজেদ আলী জানান, তিনি ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত মামলায় জেল খেটেছেন এবং মামলা এখনও চলমান রয়েছে।
মান্নান অভিযোগ করে বলেন, সুদের টাকা বাবদ মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হানেফ সরদার বলেন, সোহরাব হোসেনের ভয়ে তিনি বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, তাদের হয়রানি বন্ধ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে সোহরাব হোসেন বলেন, “আমি টাকা সুদে কারবার করে থাকি। অনেকে আমার কাছ থেকে সুদে নেওয়া টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করে। সে কারণে বাধ্য হয়ে মামলা করতে হয়।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রেরক,
আলাউদ্দীন রাজা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category