
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচএফপিও) কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাননি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় দুই নার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অনুপস্থিত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত সময়ে ইউএইচএফপিও কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় মন্ত্রী বেশ কিছু সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেন।
পরিদর্শনকালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া ইউএইচএফপিও এবং কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাত শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছিল। এ সময়ে জনবল, টিকা ও ওষুধের সংকট ছিল প্রকট।’
হাসপাতালে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে জনবল বাড়ানো হবে। দুর্নীতি বন্ধ করে সীমিত বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
কালকিনি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply