1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন

সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজ খুলনার সহকারী শিক্ষক সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানীকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বদলির অভিযোগ

একুশ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

 

ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক মহলে অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার : সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজ, খুলনা শাখার সহকারী শিক্ষক মাওলানা সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানীকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ভাবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী শাখায় বদলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালের ৯ মে থেকে অত্যন্ত সুনাম, নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা এই শিক্ষকের এমন আকস্মিক বদলিতে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে, এই অসন্তোষের প্রতিবাদে বুধবার ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এ খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল মোমিনুল ইসলাম পুলিশ এনে প্রতিষ্ঠান এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়, ও এসএসসি পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার ভয় দেখানো, অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফোনে হুমকি দেয়।
ফলে ভয়ে প্রতিবাদ কর্মসুচি স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

অভিযোগ উঠেছে, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শেষ পিরিয়ডে ক্লাস শেষ করার পরপরই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সহকারী শিক্ষক মাওলানা সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানীকে চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে একটি বদলি নোটিশ হাতে ধরিয়ে দেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে বলে মাওলানা সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানী দাবি করেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হিসেবে ‘শোকজ’ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) না দিয়েই তাকে ‘ইনস্ট্যান্ট’ অর্থাৎ অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সরিষাবাড়ী শাখায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর প্রধান অভিযোগ এই যে, গত বছর তার দায়িত্বে থাকা টিউটোরিয়াল পরীক্ষার একটি খাতা প্রতিষ্ঠানের পাপিয়া সুলতানা নামক একজন সিনিয়র শিক্ষিকা তার খাতাটি গোপন করে রেখে, পরীক্ষা কমিটির কাছে জমা দিয়ে রেখে, তাকে দায়িত্বহীন টিচার দেখানোর জন্য গত বছর প্রিন্সিপাল এর মাধ্যমে একটি শোকজ দেওয়ার ব্যবস্থা করে, সেই শোকজ এর জবাবে (শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষী) সহ প্রিন্সিপাল কে জবাব দেন।

এদিকে, এ বদলির নেপথ্যে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অফিস এক্সিকিউটিভ সোহাগ..
ব্যক্তিগত আক্রোশ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার মতে, খন্দকার সোহাগ মিয়ার কথিত নারী কেলেঙ্কারী, প্রকাশ্যে টি-স্টলে ধূমপান এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষিপ্ত ছিলেন।
মাওলানা সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানী দাবি করেন, “খন্দকার সোহাগ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমার চাকরি খেয়ে ফেলা, ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং আমাকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিলেন, যা প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকরাও অবগত আছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ নারী লোভ এই সোহাগ মিয়া তার ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে টাঙ্গাইলে অবস্থানরত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানকে আমার সম্পর্কে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। চেয়ারম্যান স্যার একপক্ষের কথা শুনেই এই বদলির আদেশ দিয়েছেন।”
এদিকে, বার্ষিক পরীক্ষার ঠিক আগে একজন জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের এমন বদলি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার পরিবেশকেও ব্যাহত করবে।
মাওলানা সাজ্জাদুল্লাহ রায়হানী আশা করেন, প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে চেয়ারম্যান স্যার তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করবেন এবং একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজ খুলনা শাখার প্রিন্সিপাল মোমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট শিক্ষক আগে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়েছিলেন। এই কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ এনে রাখা হয়েছিল।”
তবে কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক মানববন্ধন করতে চেয়েছিল কিনা বা কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কেউ মানববন্ধন করতে চায়নি, আর কাউকে বাঁধাও দেওয়া হয়নি।” যদিও কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র মধ্যস্ততায় বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রিন্সিপাল ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের বক্তব্য এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের অসন্তোষ মিলিয়ে খুলনা সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজে বর্তমানে এক অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে কোনো ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category