
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে শুল্ক ফাঁকি,চোরাচালান ,বাণিজ্যিক জালিয়াতিও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একটি বিশেষায়িত ও প্রধান সংস্থা হলেও অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়া এখন বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দাও তদন্ত সার্কেল।
অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়া রোধ করা এবং আইন লঙ্ঘন করে আনা পণ্য আটক ও জব্দ করা দপ্তরটির মূল কাজ হলেও রক্ষক সেজে ভক্ষকের ভূমিকায় বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের কর্মকর্তাসহ অধীনস্তরা।
বেনাপোল বন্দরে আসা আমদানি পণ্য চালান ছাড় করানোর ফাইল আটকিয়ে ঘুসের টাকা দাবি,ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের ল্যাগেস পারাপারে অর্থ আদায়,বড় অঙ্কের অর্থবাণিজ্যে স্বর্ণপাচারকারীদের সহায়তা দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে দপ্তরটির বিরুদ্ধে।
দপ্তরটির সদস্য বেনাপোল ইমিগ্রেশানে দায়িত্বরত জাহাঙ্গীরের হয়রানির স্বীকার ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী রাজা সাহা বলেন গত ৭ সেপ্টেম্বর ২৬ ইং তারিখে ল্যাগেস সুবিধায় ৩০ কেজি করসোল ফল আনলে গোয়েন্দা পরিচয়ে জাহাঙ্গীর আমার কাছে ২ হাজার টাকা দাবী করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ফল গুলি আটকিয়ে ডি এম স্লিপ করে দেয়। অথচ তার চাহিদামত টাকা দিয়ে অন্যান্য যাত্রীরা তাদের সাথে থাকা অবৈধ ও উচ্চ শুল্কের পণ্য আনায়াসে কাস্টমস হতে বের করে নিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় ও একাধিক সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর( শনিবার)দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশান চত্তর থেকে আল মামুন নামের(৪৭) এক পাসপোর্ট যাত্রীর পায়ুপথ হতে স্বর্ণবার উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের সদস্যরা।
প্রথমে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের উপ-পরিচালক আবু সেলিম মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেন ভুঁইয়ার নির্দেশে আটককৃত স্বর্ণপাচারকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি এ সংক্রান্তে গণমাধ্যমকে কোন তথ্য দিতে নিষেধ করেন। অভিযানে থাকা গোয়েন্দা সদস্য জাহাঙ্গীর আটককৃতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন সেলিম স্যার স্বর্ণ আটক সংক্রান্তে তথ্য দিতে নিষেধ করেছেন।
স্বর্ণ উদ্ধার অভিযানে দুটি স্বর্ণবার উদ্ধারের কথা বলা হলেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অতিরিক্ত স্বর্ণবারসহ ঐ পাসপোর্ট যাত্রীকে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। এর আগে গত ৫ আগস্ট২৬ ইং তারিখে মোবারক হোসেন নামের পাসপোর্টযাত্রীর(এ-০৯৩২৬৭৮৯)কাছ হতে কাস্টমস গোয়েন্দা স্বর্ণবার উদ্ধার করলেও একই প্রক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমদানি কারক প্রতিনিধি জানান,উপ-পরিচালক সেলিম একজন দূর্নীতিগ্রস্থ ও মাদকসেবী কর্মকর্তা। তিনি ইতিপূর্বেও বেনাপোল স্টেশনে থাকাকালীন সময়ে আমদানি পণ্যের(এমটিশেন এন্ড আদারস) সাপটা সুবিধা বাতিল করার ভয় দেখিয়ে আমদানিকারক প্রতিনিধি মেসার্স ইমান এন্ড সন্স এর নিকট হতে ৫ লাখ টাকা ঘুস আদায় করেন যা সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ তদন্তে বের হবে।
সেলিমের ইন্ধনে কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্যরা প্রকাশ্য ঘুস বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। এ কারনে প্রতিনিয়ত চেকপোস্ট ইমগ্রেশানে যাত্রী ও কাস্টমস হাউসে আমদানিকারক প্রতিনিধি হয়রানি হচ্ছে।
বিষয়টি জানতে বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের উপ-পরিচালক আবু সেলিম মোহাম্মদ মোশারাফ হোসেন ভুঁইয়ার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভি না করায় বক্তব্য জানা যাইনী।
স্থানীয় সুলীল মহলের দাবি দ্রুতই বেনাপোল কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষ্যে অপসারণ পূর্বক যাত্রী হয়রানি বন্ধ করে যাত্রী সেবা মান বৃদ্ধি করার।
Leave a Reply