1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন

ইথিওপিয়ার রাজধানীতে বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ Time View

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর জোটের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে রাজধানী আদ্দিস আবাবা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজধানীতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

একই সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গেও সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের আগে আদ্দিস আবাবায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করেছিল ইথিওপিয়ার কর্তৃপক্ষ।
ইথিওপিয়ান পিপলস’ ফোর্সেস অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল নামের একটি জোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, জোটটি আদ্দিস আবাবায় বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক বাহিনীর সদর দফতর।

তবে এসব হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট
সরকারবিরোধী এই জোটে সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) এবং আমহারা, আফার, সোমালি ও বেনিশানগুল-গুমুজ অঞ্চলের কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন।

জোটটির দাবি, তারা প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়।

ইথিওপিয়ার ফেডারেল সরকার অবশ্য অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ এই সরকারবিরোধী জোটকে সমর্থন করছে। তবে অভিযুক্ত দেশগুলো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আফার অঞ্চলেও জোটের যোদ্ধাদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। একই সময়ে ইথিওপিয়া আবারও অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়ার বাহিনী আফারে প্রবেশ করেছে। তবে ইরিত্রিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তিগ্রায়ের দিকে এগোচ্ছে সরকারি বাহিনী
আফার অঞ্চল থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদক মুহাম্মদ তাহা তাওয়াকেল বুধবার জানান, আমহারা অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া লড়াই আরও উত্তরে তিগ্রায় অঞ্চলের গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে তিগ্রায়ের আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলের প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গেছে।

এদিকে তিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) তাদের যোদ্ধাদের নতুন অবস্থানে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটির কয়েকজন নেতাও মেকেলে ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানান তাওয়াকেল।

সংঘর্ষের আশঙ্কায় হাজার হাজার বেসামরিক মানুষও মেকেলে থেকে পালিয়েছেন। অঞ্চলটির বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে তিগ্রায়ের বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। টিপিএলএফ এটিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, ফেডারেল বাহিনীর ড্রোন ও গোলাবর্ষণের জবাব দিতেই তারা এ অভিযান চালিয়েছে।

এরপর সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা অভিযান শুরু করে। ফলে উত্তর ইথিওপিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

আফারে নতুন করে সংঘর্ষ
আফার অঞ্চলের পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ইথিওপিয়ার সরকারি বাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা তিগ্রায়ের সীমান্তসংলগ্ন ইরেবতি ও আবালা শহর দুটি পুনর্দখল করেছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ দাবি যাচাই করতে পারেনি।

আল-জাজিরার তাওয়াকেল বুধবার জানান, ওই দুই শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তখনও লড়াই চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে সংঘর্ষরত বাহিনীকে আবালা ও ইরেবতি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।

এলাকাটিতে আটকে পড়া ৮০ হাজারের বেশি আফার বাসিন্দার বর্তমান অবস্থা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরিত্রিয়া-ইথিওপিয়া যুদ্ধের আশঙ্কা
আফারে সংঘাত বাড়ার ফলে শুধু ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ যুদ্ধই নয়, পুরো হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাওয়াকেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফারে সংঘাত আরও তীব্র হলে ইরিত্রিয়া ও ইথিওপিয়া সরাসরি বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়া ও জিবুতির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহপথে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্যনিরাপত্তাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইথিওপিয়ার ইরিত্রিয়া ও সুদানের সীমান্তসংলগ্ন এলাকাতেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এত দিন মূলত ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

আফারের উপ-গভর্নর আহমেদ হুসেইন বুধবার আল-জাজিরাকে বলেন, ইথিওপিয়া নজিরবিহীন এক হামলার মুখে পড়েছে। তার দাবি, এই হামলার লক্ষ্য হলো আফার আঞ্চলিক প্রশাসনকে দুর্বল করা এবং ইরিত্রিয়ার প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের সেখানে ক্ষমতায় বসানো।

তিনি ইরিত্রিয়াকে আফার ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্য ইরিত্রিয়াকেই দায়ী করেন।

আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে
ইথিওপিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি কয়েক বছর আগের তিগ্রায় যুদ্ধের স্মৃতি আবারও সামনে এনেছে। এবার সংঘাত তিগ্রায় ও আমহারার পাশাপাশি আফার অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ড্রোন হামলার দাবিও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়েছে।

রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনা সত্য হলে এটি সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। অন্যদিকে ইরিত্রিয়া ও সুদানের সীমান্তের কাছাকাছি লড়াই এবং জিবুতি-সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের সম্ভাব্য ঝুঁকি ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আঞ্চলিক সংকটে পরিণত করতে পারে।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। তবে রাজধানীতে বিস্ফোরণ, তিগ্রায়ের দিকে সরকারি বাহিনীর অগ্রসর হওয়া এবং আফারে ইরিত্রিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগ- সব মিলিয়ে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category