
উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এতে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার মান তদারকিতে চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারীর একটি, হিসাব সহকারীর একটি, অফিস সহকারীর দুটি এবং এমএলএসএসের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বহিরাগত লোকজনের মাধ্যমে জরুরি দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একদিকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার মান তদারকি, অন্যদিকে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে বাড়ছে কাজের চাপ। ফলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
কয়রা উপজেলায় ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৭৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা শিক্ষা অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা অফিসে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সব পদে লোকবল নিয়োগ সম্ভব না হলেও দ্রুত অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার বলেন, শিক্ষা অফিসের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এসব পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক কাজ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বহিরাগত লোকজনের মাধ্যমে অফিসের জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উপকূলীয় এ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
Leave a Reply