1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

অভয়নগরে ৪২০ টন সরকারি সার গায়েব

অভয়নগর প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭০ Time View

কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আগেই মাঝপথ থেকে গায়েব হয়ে গেল ৪২০ মেট্রিক টনেরও বেশি সরকারি ইউরিয়া সার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পাচার ও অবৈধ মজুদের এই বড় জালিয়াতি হাতেনাতে ধরে ফেলেছে যশোরের অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিপুল পরিমাণ সার অন্যত্র সরিয়ে ফেলার দায়ে একটি নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর (রবিবার) রাতে ভৈরব নদীর তীরবর্তী শংকরপাশা খেয়াঘাট এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালান অভয়নগরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিসিআইসি (BCIC) নিবন্ধিত সার পরিবহনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল শিপিং এজেন্সি-র খুলনার গুদাম থেকে সার পাচার হচ্ছে এমন একটি গোপন খবর আসে প্রশাসনের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই রবিবার রাতে শংকরপাশা খেয়াঘাট সংলগ্ন ওই গুদামে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয়। সরকারি খাতা-কলমের হিসাবের সাথে যখন গুদামের বাস্তব মজুদ মেলানো হয়, তখনই চোখ কপালে ওঠে কর্মকর্তাদের। দেখা যায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি বা চালান ছাড়াই গুদাম থেকে উধাও হয়ে গেছে ৪২০.২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার।
অভিযানের সময় গুদামে দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খুলনা শাখার ইনচার্জ মো: আ: মজিদকে (৩৩) জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এই বিশাল অংকের সার গায়েব হওয়ার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)-এর বিধান অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী অভিযুক্ত আ: মজিদকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী জানান, কৃষকদের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না। সরকারি সার পাচার করে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। প্রান্তিক কৃষকেরা যেন ন্যায্যমূল্যে সার পান এবং সারের বাজার যেন স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য জনস্বার্থে এই ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান নিয়মিত জারি থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ কৃষকেরা। তারা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে এমন কঠোর নজরদারি বজায় থাকলে সারের অবৈধ সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category