1. admin@dainikamarekush.com : amar123 :
  2. newsamarekush@gmail.com : md arif : md arif
  3. newsamarekush1@gmail.com : dainik staf1 : dainik staf1
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

সাগর-রুনি হত্যা • পুরোনো আলামতে নতুন অনুসন্ধান, সামনে আসবে কি নেপথ্যের কাহিনি?

একুশ ডেস্ক:
  • Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৬ Time View

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্তে পুরোনো আলামত ও জিও-লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এত বছরেও রহস্যের জট কেন খোলেনি, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন টাস্কফোর্স সংশ্লিষ্টরা। নতুন অনুসন্ধানে কি উন্মোচিত হবে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের অজানা কোনো অধ্যায়, নাকি আরও জটিল হবে তদন্তের সমীকরণ, এখন সেদিকেই নজর সবার।

জানা গেছে, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির উভয়ের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে উল্লেখযোগ্য আঘাতের অস্তিত্ব নেই। এ হত্যাকাণ্ড পেশাদার খুনির অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভিকটিমদের (সাগর-রুনি) দেহে অনেকগুলো ক্ষত ছিল, যা অধিক রক্তক্ষরণের জন্য দায়ী। তবে প্রতীয়মান হয়, ভিকটিমরা মৃত্যুর পূর্বে অনেকক্ষণ ক্ষতসহ জীবিত ছিলেন। সাগর-রুনির হত্যার ক্রাইমসিন (অপরাধস্থল) ও ভিকটিমদের ক্ষতের পরিমাণ দেখে বোঝা যায়, খুনিরা তাড়াহুড়া করেনি।

 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি/ফাইল ছবি

সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ অংশে এমন তথ্য তুলে ধরেছে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স।

তবে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অভিযানে পাওয়া জিও-লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন (মুদ্রিত সংস্করণ) থেকে এ মামলা নতুন মোড় নিয়েছে।

পরে এ তথ্যগুলো হাতে আসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের।

প্রসিকিউশন কিছু নথি যাচাই করে প্রাথমিকভাবে দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার কথা জানায়। প্রসিকিউশনের বরাতে ‘হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্স তদন্তকৃত সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে’ নতুন এই তথ্য উচ্চ আদালতে উপস্থাপন করে।

হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর আল রাজি ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এরপর তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের এক বছর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন আদালত।

এর আগে টাস্কফোর্সের সচিব ও তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু আদালতে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাধী শনাক্ত করাসহ গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, প্রাপ্ত তথ্য তদন্ত করে যাচাই-বাছাইসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে অগ্রগতি প্রতিবেদনে।

প্রসিকিউশনের বরাতে টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন মতে, প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই-বাছাই করছে প্রসিকিউশন। এছাড়া প্রতিবেদনে ডিএনএ, সাক্ষী, জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব)। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।

এ অবস্থায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে প্রতিবেদন দিতে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়।

দুজনের ডিএনএ উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি

প্রতিবেদনের ‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ অংশে বলা হয়, ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী সাগরকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুটি অপরিচিত পুরুষ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এই অপরিচিত অপরাধী শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রস্তুতকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব সম্ভাব্য প্রচেষ্টা চালিয়েও অপরাধীদের শনাক্তে ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, ডিএনএ অধিক মিশ্রিত হওয়ায় কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন সবে ব্যক্তি/আসামির ডিএনএর সঙ্গে সেই অজ্ঞাত ডিএনএ মেলে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।

প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাট এবং সাগর-রুনির পরিধেয় বস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত ও ২৫ জনের বাকাল সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বিদেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এই ২৫ জন ব্যক্তির সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও নেদারল্যান্ডসের একটি ল্যাবে পাঠানো হয়। আলামতে প্রাপ্ত ডিএনএর সঙ্গে পাঠানো ব্যক্তিদের ডিএনএ ম্যাচিং হয়নি।

তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে বলা হয়, মামলাটি তদন্তকালে আগের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মোট ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। টাস্কফোর্স তদন্তকালে ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৪ জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়া ভিসেরা রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, চেতনানাশক পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ডিএনএ রিপোর্টে তিনজন পুরুষ, এক নারী

ওই প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনাস্থলে মোট চারজন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন ভিকটিম সাগর এবং একজন নারী রুনি বলে শনাক্ত হন। বাকি দুজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তি কারা, তা উদ্ঘাটন করা যায়নি। এই দুজনের ডিএনএ থেকে ছবি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ছবি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। কিন্তু ডিএনএতে অধিক মিশ্রণজনিত কারণে ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি তারা। দীর্ঘ তদন্তেও ওই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ (উদ্দেশ্য) এবং হত্যাকাণ্ডে কে বা কারা জড়িত, তা আজ অবধি নির্দিষ্ট করা যায়নি।

পারিবারিক কলহে নয়, দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলা হয়, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অন্যজন আত্মহত্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা যায়, দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন এই দম্পতি দেশের বাইরে জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর সাত মাস আগে দেশে আসেন। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টিভির সহকারী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তার কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে, যার নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। তাদের মৃত্যুর পরবর্তীসময়ে নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তাদের হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে কি না, তদন্তকালে এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা ধারকর্জের তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, কারও সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, এ ধরনের কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ভবনের সিকিউরিটি গার্ড নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার ঘটনাস্থলের ভবনের সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে র‍্যাব সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে। সে এখনো কারাগারে। আদালতের নির্দেশে সিকিউরিটি গার্ডকে কাশিমপুর কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তাকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায় এবং ঠিকমতো উত্তর দিতে না পারায় পুনরায় আদালতের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে একজন আইনজীবী তার চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদন করলে আদালত তার চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আসামিকে পরীক্ষা করে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।

উদ্ধার হয়নি ল্যাপটপ ও মোবাইল

প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়, এ মামলায় লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন সেট ও দুটি ল্যাপটপ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মিডিয়া মুখপাত্র সাবেক ডিএমপি-ডিবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হয়তো মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।

নতুন তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এক বক্তব্যে বলেন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুদক অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে। যেখানে বিভিন্ন রকম জিও-লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন (মুদ্রিত সংস্করণ) পাওয়া যায় এবং এ সংক্রান্তে জিয়াউল আহসানের সহকারীকে (একজন সেনা সদস্য) জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা পান বলে বর্ণনা দেন। এ বক্তব্য সমর্থন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।

পরে টাস্কফোর্সের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউটরের আলোচনাকালে তারা প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পেয়ে তদন্তপূর্বক যাচাই-বাছাই করছেন বলে জানান। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হস্তান্তর করা হবে। এ অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর তাদের কাছে সংরক্ষিত মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তের নিমিত্তে হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধীদের শনাক্তকরণসহ গ্রেফতার, লুণ্ঠিত বর্ণিত মালামাল উদ্ধার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক প্রাপ্ত তথ্য তদন্তপূর্বক যাচাই-বাছাইসহ সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্তকার্য সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার করা সিডি প্রায় ৩০০ এবং সেখানে অসংখ্য ডাটা, কথোপকথন, ভিডিও, অডিও এবং নানা রকম অপরাধের তথ্য থাকতে পারে। তারা সেগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং পর্যালোচনার শেষে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ ও উপাত্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দিলে তিনি সে অনুযায়ী তদন্তের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

কেন তদন্তে আরও সময় চেয়েছে টাস্কফোর্স

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী প্রসিকিউশন টিমের উদ্ধার করা প্রায় ৩০০টি সিডির সবগুলো পর্যালোচনা এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত সম্পন্ন করে বা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হওয়ার পর সিডিগুলো পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করতে আরও সময় প্রয়োজন। এ কারণে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানাতেও বলা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, ৩০০টি সিডির মধ্যে ৯০টি পর্যালোচনা করা হয়েছে, বাকি ২১০টি এখনো পর্যালোচনা করা হয়নি। এসব সিডি যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ এক বছর সময় চেয়েছিল। তবে বাদীপক্ষের যুক্তি ছিল, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় সিডি পর্যালোচনার জন্য এত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন নেই। শুনানি শেষে আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছেন।

শিশির মনির আরও বলেন, আগামী ২৯ এপ্রিল টাস্কফোর্সের প্রধান, সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার সদস্যরা আদালতে হাজির হয়ে সিডি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি করা নতুন সূত্রগুলো পর্যালোচনায় সঠিক প্রমাণিত হলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিবেদনে মেজর জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর নাম এসেছে। তবে শুধু নাম উল্লেখ করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। সিডিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে সেই প্রমাণ সংগ্রহ করাই এখন মূল লক্ষ্য।

 

সূত্র: জাগো নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category