
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উপ—সহকারী প্রকৌশলী কাজী নূর মোহাম্মাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু অনিয়ম না ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়েছেন নামে বেনামে অঢেল সম্পদ। বিগত সরকারের সময় একচ্ছত্র দাপটে তিনি করেছেন দুর্নীতি। জবাবদিহিতা না থাকায় পাড় পেয়ে গেছেন তিনি। স্ত্রীর নামে একাধিক জমি জায়গা ও বাড়ি করেছেন। দুর্নীতির টাকা লেনদেন করেছেন একাধিক ব্যাংক একাউন্টে। পট পরিবর্তনের পরও তিনি এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন তার লুটপাট। গড়ে তুলেছেন নিজের সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের ছায়ায় ধামাচাঁপা পড়ে যাচ্ছে অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজী নূর মোহাম্মাদ ২০১৩ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরীতে যোগদান করেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের গ্যারেজ শাখা ও অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টে তিনি লাগামহীন দুর্নীতি করেছেন। বিভিন্ন ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ। নামে বেনামে তিনি অঢেল সম্পদ গড়েছেন। সম্পদের বিপরীত নেই তার বৈধ আয়ের কোনো প্রকৃত উৎস। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আব্দুল আজিজের সময়ে গ্যারেজ শাখা ও অ্যাসফল্ট প্ল্যান্টের সরকারি যানবাহন, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, জ্বালানি, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রয়ে যোগসাজোশে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন।
অফিস সূত্র বলছে, দুর্নীতি কখনো একা করা যায় না। তার সেকশনের অনেকে দুর্নীতির সাথে জড়িত। তিনি বিগত সরকারের সময়ে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার সিন্ডিকেটে রয়েছেন অফিস সহকারী (মাস্টার রোল) জি এম শাহাজামাল—হোসেন এবং অফিস সহায়ক (মাস্টার রোল) কালাম হোসেন। বিভিন্ন টেন্ডার , রক্ষনাবেক্ষ এবং ক্রয় সংক্রান্ত কাজে তার সিন্ডিকেট সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করতেন না। অভিযোগ উঠলেও তা অজ্ঞাত কারনে ধামাচাপা পড়ে যেতো।
কেসিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, কাজী নূর মোহাম্মদের একটি পাঁচ তলা বাড়ি রয়েছে। রয়েছে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। এসকল সম্পদ রয়েছে তার স্ত্রীর নামে। এছাড়াও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। তার এসকল ব্যাংক একাউন্টে ৫ই আগষ্টের আগে ও পরে হয়েছে অবৈধ আর্থিক লেনদেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে যোগদানের পর্বে কাজী নূর মোহাম্মাদ ক্রাউন সিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। সেখানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি সরে আসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি যানবাহন, যন্ত্রাংশ, জ্বালানি, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রয়সংক্রান্ত খাত থেকে হাতিয়েছেন বিপুল পরিমান অর্থ। এখনো তিনি লাগামহীন দুর্নীতি করে চলেছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগ উঠলে ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়ার স্বভাব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। দুর্নীতি করে বেনামে সম্পদ গড়ে অনেকে পাড় পেয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয় গুলো ক্ষতিয়ে দেখা উচিত। তদন্ত কার্যক্রমে অনেক সময় অনেক কিছু ধামাচাপা পড়ে যায়। এজন্য অভিযোগ পাওয়া মাত্র স্বল্প সময়ে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে উন্মোচন করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাজী নূর মোহাম্মাদের কাছে জানতে চাইলে তার কোনো মন্তব্য নেই বলে তিনি জানান।
Leave a Reply