
দৈনিক আমার একুশ পত্রিকায় অবৈধ ঘুস আদায়ের উদ্দেশ্যে বেনাপোল ইমগ্রেশানে পাসসোর্ট যাত্রী হয়রানি ও স্বর্ণপাচারকারীদের সহায়তার অভিযোগে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বেনাপোল সার্কেলের সহকারী পরিচালক আবু সেলিম মোঃ মোশারফ হোসেনের নামে সংবাদ প্রকাশের পর বদলি হলেও তার প্রধান সহযোগী কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্য জাহাঙ্গীর আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন।
অবৈধ কালো টাকা দিয়ে পছন্দের কর্মকর্তাকে পুনরায় বেনাপোল স্টেশনে আনতে বেনাপোল সীমান্তের চোরাচালানী ও ল্যাগেস ব্যবসায়ীদের কাছ হতে সুবিধা দেওয়ার নামে নিজ বিকাশে (০১৯১২৯৬২২২২)হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয়ে কল কেটে দেন।
বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়,গত ৫ অক্টোবর২০২৬ ইং তারিখে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ সফিউর রহমান স্বাক্ষরিত( নথি নং-২-ইটি-৭(৬০)আই ওআই/৯৭ অংশ-৬/২৩৯৫) চিঠির এক আদেশে জনাব আবু সেলিম মোঃ মোশারফ হোসেনকে বদলি করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর,আঞ্চলিক কার্যালয়,চট্টগ্রামে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্য জাহাঙ্গীরের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেইনী।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ২৬ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২৬ ইং তারিখে রেকটমে স্বর্ণবার বহণ করে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেনাপোল ইমিগ্রেশানে আগত স্বর্ণপাচারকারী পাসপোর্ট যাত্রী আল মামুন ও মোবারক হোসেনের কাছ হতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আবু সেলিম ও তার প্রধান সহযোগী জাহাঙ্গীর পাচারকারীদের স্বর্ণবার আত্নসাৎ ও মামলা হতে বাঁচতে সহযোগীতা করেছে বলে বিভিন্ন পত্র-পক্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে খবর প্রকাশ হয়।
সেলিম বদলি হলেও তার মদদ পুষ্ট কাস্টমস গোয়েন্দা জাহাঙ্গীর বেনাপোল স্টেশনে থেকেই পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জাহাঙ্গীরের হয়রানির স্বীকার স্থানীয় ল্যাগেস ব্যবসায়ী রনি বলেন আমাকে পণ্য ডিএমকরা সহ মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা নেয় গোয়েন্দা জাহাঙ্গীর। এছাড়াও সে একজন মাদক সেবী,যা ডোপ টেস্টে প্রমানিত হবে।
জাহাঙ্গীরের বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় খোঁজ খবর নিলে তার নিকট আত্নীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চাকরি করে বলে জানিয়ে আমদানিকারক প্রতিনিধিদের কাছ হতে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের নামে বড় অঙ্কের টাকা ঘুস নেন। এছাড়াও নিজেকে বড় কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মোবাইলে থাকা ছবি দেখিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের ল্যাগেসে থাকা ডিউটি ফ্রি সুবিধার মদ আটকিয়ে হাজার হাজার টাকা আদায় করেন বলে জানা গেছে। জাহাঙ্গীর ও কর্মকর্তা সেলিম ইতিপূর্বেও বেনাপোল সার্কেলে থেকে ডলার ও স্বর্ণ উদ্ধারের নামে পাচারকারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে লাখ লাখ টাকা অবৈধ আয় করেছেন যা সুষ্ঠ তদন্তে বের হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল ও সন্ধ্যা দুবার চেকপোস্ট ইমিগ্রেশানে গিয়ে ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীদের ল্যাগেজ চেকিং এর নামে পাসপোর্ট প্রতি ১ হাজার হতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস আদায় করে। জাহাঙ্গীরের ঘুসের টাকা উত্তোলন কাজে বহিরাগত হয়েও ফিরোজ নামে এক যুবক নিয়মিত ইমগ্রেশানে প্রবেশ করে বলে আরো জানা গেছে।
বহিরাগত প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল ইমিগ্রেশানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুর রহমান জানান,ইমিগ্রেশান চত্তরে বহিরাগত প্রবেশের কোন সুযোগ নাই। যাত্রী প্যান্সেজার টার্মিনালে এ ধরনের অভিযোগ থাকতে পারে যেটা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
Leave a Reply