
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা এলাকার কাদের সরদারপাড়া বসতি সংলগ্ন রেলওয়ের একটি জলাশয় লিজ দেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ ঠেকেছে আদালত পর্যন্ত।
খোজ নিয়ে জানা যায়, একটি দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর লিজ নিয়ে বিরোধ সামনে আসে। রেলওয়ের একটি জলাশয়ে ব্যবসা করার জন্য শর্ত সাপেক্ষে নারী উদ্যোক্তা খাদিজা বেগমকে লিজ দিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস। কাদের সরদারপাড়া বসতি এলাকার রেলের জলাশয়টি হাবিবুর রহমান বিশ্বাস গত প্রায় ২০ বছর যাবৎ লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। বিগত সরকারের আমলে রাতে মাছ চুরি হওয়াসহ নানা কারনে লোকসানের মুখে পড়লে তিনি খাদিজা বেগমের কাছে ঘেরটি সাব-লিজ দেন। কিন্তু খাদিজা বেগম লিজের পাওনা টাকা সঠিকভাবে পরিশোধ না করায় এবং সেখানে দোকানঘর তৈরী করাতে তার কাছ থেকে লিজ বাতিল করা হয়। যার বিরোধিতা করে কৌশলে সব কিছু নিজের দখলে রাখতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মামলা করেন খাদিজা বেগম।
কিন্তু খাদিজা বেগম জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি বার্ষিক ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে হাবিব বিশ্বাসের ঘেরটিতে চাষাবাদ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সমস্ত পাওনা টাকা পরিশোধ করে তিনি নতুন করে মাটি কেটে ঘেরটি চাষের উপযোগী করেন। কিন্তু হাবিব বিশ্বাস রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তার জায়গা দখল করে নেন।
দোকান ঘর প্রসঙ্গে খাদিজা বলেন, দোকানটি ভেঙে ফেলার জন্য হাবিব বিশ্বাস তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। তিনি দোকান না ভাঙায় তাদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলেও থানা পুলিশ তার কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কেরোসিন দিয়ে দোকান ও ঘেরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘেরে নির্মান করা দোকান ঘরে মাদক ও জুয়ার আসর পরিচালনা করছিলো একটি চক্র। জুয়া বন্ধ করার বিষয়ে বললে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ হাবিবের ওপর চড়াও হয়। পর্যায়ক্রমে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাবিব বিশ্বাস ২০ হাজার টাকা দিয়ে খাদিজার কাছ থেকে ঘেরটি পুরোপুরি ছাড়িয়ে নিয়ে দোকানটি ভেঙে ফেলার অনুরোধ করেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দেয়।
কিন্তু এ বিষয়ে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, কাদের সরদারপাড়া বসতি এলাকার রেলের জলাশয়টি তিনি বিগত প্রায় ২০ বছর যাবত লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। বিগত সরকারের আমলে রাতে মাছ চুরি হওয়াসহ নানা কারণে লোকসানের মুখে পড়লে তিনি খাদিজা বেগম নামের একজন নারীর কাছে ঘেরটি সাব-লিজ দেন। কিন্তু খাদিজা বেগম লিজের পাওনা টাকা সঠিকভাবে পরিশোধ না করায় তার কাছ থেকে লিজ বাতিল করা হয়।
হাবিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, লিজ থাকাকালীন খাদিজা সেখানে একটি দোকান ঘর নির্মাণ করেছিলেন এবং শর্ত ছিল বলার সাথে সাথে তা সরিয়ে নেবেন। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে উল্টো।
হাবিব বিশ্বাস অভিযোগ করেন,দোকান ঘর ভাঙার কথা বলাতেই খাদিজা বেগম ক্ষিপ্ত হন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
খাদিজা বেগমের করা মামলার অপর আসামি আশিকুর রহমান অশোক জানান, তিনিও রেলওয়ের একটি জলাশয় লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতেন এবং পরবর্তীতে হাবিব বিশ্বাসের কাছ থেকে এই জলাশয়টি সাব-লিজে নেন। লিজ নেওয়ার পর থেকেই খাদিজা বেগম তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরবর্তীতে খাদিজা একটি মুচলেকা দিয়ে ঘেরটি ছেড়েও দেন। কিছুদিন আগে খাদিজার দোকানে থাকা একটি ফ্রিজের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু খাদিজা পরিকল্পিতভাবে সেই ঘটনার দায় হাবিব বিশ্বাস, অশোক এবং অন্যান্যদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা করেন।
Leave a Reply