প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬, ৪:৫৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৫১ পি.এম
কালের সাক্ষী সাতক্ষীরার ৪০০ বছরের পুরনো ‘তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ’: সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্য

মুসলিম সভ্যতার এক অনন্য নিদর্শন ও স্থাপত্যশৈলীর অসামান্য স্মারক সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ। কালের বিবর্তনে প্রাচীর ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন মসজিদটি স্থানীয়ভাবে 'মিয়া মসজিদ' নামেও বহুল পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের সঙ্গে এর বিশেষ সাদৃশ্য রয়েছে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে মোঘল আমলে ধার্মিক মুসলিম জমিদার কাজী সালামতুল্লাহ খান বাহাদুর মসজিদটি নির্মাণ করেন। সেই সময় ভারতীয় উপমহাদেশের বিহারের একজন প্রখ্যাত কারিগর ও স্থপতি এই মসজিদটির নকশা ও কারুকাজের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই একরের জায়গাজুড়ে বিশাল এক দিঘীর দক্ষিণে প্রায় এক একর জমির উপর মসজিদটি নির্মিত। এতে রয়েছে- মোট ৭টি দরজা, ১৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ৬টি বড় গম্বুজ, ৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ১৪টি মিনার, ছাদের চারকোনায় ২৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট চারটি মিনার। এ ছাড়া মসজিদের আওতাভুক্ত এলাকায় বহু অজানা ব্যক্তিদের কবরের চিহ্ন থাকলেও সেগুলো অরক্ষিতভাবে আছে যুগ যুগ ধরে।
মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন। মসজিদ কমিটির অভিযোগ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে মসজিদ সংস্কারের বিষয়ে অনেকবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
মসজিদের খাদেম মো. মাসুদুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত মসজিদটির দেখাশোনা করে আসছি। এখানে পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে দুই শতাধিক মুসল্লি নিয়মিত নামাজ আদায় করে থাকেন। তাছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি পাঁচ শতাধিক হয়ে থাকে।
মসজিদের খতিব আব্দুর রব জানান, মোগল আমলের এই মসজিদটি দেশের গৌরব। মুসল্লিদের পাশাপাশি প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন। তবে মসজিদের পাঁচালি ও মিনারের অংশগুলো লোনা ধরে ধসে পড়ছে। বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ভবনটির কিছু অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ধসে পড়ার উপক্রম। এ ছাড়া মসজিদে মানসম্মত কোনো বাথরুম ও অজুখানা নেই। বিষয়গুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল জর্দ্দার জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাজ হলো পুরাকীর্তিগুলো সংরক্ষণ করা। কিন্তু তারা নিজেরাও কাজ করে না, আমাদেরও কাজ করতে দেয় না। ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংস্কারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখানে দেখাশোনার জন্য লোক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। একই সঙ্গে এখানকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা আজও কার্যকর হয়নি।
<p style="text-align: center; ">সম্পাদক ও প্রকাশক :মনোয়ারা জাহান। প্রধান সম্পাদক : লে: কমান্ডার কে এম জাহাঙ্গীর আলম বিএন (অবঃ), বার্তা সম্পাদক : আরিফ বিল্লাহ। সম্পাদক কর্তৃক ৪৬, বড় মির্জাপুর রোড থেকে প্রকাশিত, অনির্বাণ প্রেস এন্ড পাবলিকেশন , বড় মির্জাপুর রোড, খুলনা থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, শামসুর রহমান রোড, খুলনা। ০১৭১২-২৫৩৫১৯ / newsamarekush@gmail.com</p>
দৈনিক আমার একুম