প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৪:২৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২২, ২০২৬, ৭:৪৩ পি.এম
‘নিউজ করলি কেন, তোকে গুম করব’: সাংবাদিককে হুমকি দফাদার মতিউরের

খুলনার কয়রায় হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন দিপুকে গুম ও হত্যার হুমকি দিয়েছে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিউর রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে কয়রা সদরের ইমান মার্কেটে ইমরানের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডির) আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
মিনহাজ উদ্দিন দিপু দৈনিক সকালের সময় ও আমার একুশ পত্রিকার কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এর জের ধরেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিপু অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইমান মার্কেটে ইমরানের চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মতিউর রহমান তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিউজ করলি কেন? তোর দুই ভাইকে সতর্ক করেছি। তারপরও তুই নিউজ করলি কেন? সময় হলে তোকে তুলে নিয়ে যাব, মেরে দিব। দেখি তোকে কে বাঁচায়। সময় হোক।’
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক দিপু। তাঁর অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে, দফাদার মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, দুর্ব্যবহার ও ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার দাবি করে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কয়রা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে একটি রেজুলেশন গ্রহণ করেন। তাঁকে দফাদারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। আমরা সব ইউপি সদস্য মিলে তাঁর বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে ইউএনও কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। এখন ইউএনও যদি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমাদের কী করার আছে?’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে দফাদার মতিউর রহমানের ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
<p style="text-align: center; ">সম্পাদক ও প্রকাশক :মনোয়ারা জাহান। প্রধান সম্পাদক : লে: কমান্ডার কে এম জাহাঙ্গীর আলম বিএন (অবঃ), বার্তা সম্পাদক : আরিফ বিল্লাহ। সম্পাদক কর্তৃক ৪৬, বড় মির্জাপুর রোড থেকে প্রকাশিত, অনির্বাণ প্রেস এন্ড পাবলিকেশন , বড় মির্জাপুর রোড, খুলনা থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৫১, শামসুর রহমান রোড, খুলনা। ০১৭১২-২৫৩৫১৯ / newsamarekush@gmail.com</p>
দৈনিক আমার একুম